সূর্যস্নাত
সময়ের পাতায় লিখে চলা না আমার বলা কথাগুলো………….

নভে
03

তোমায় এঁকেছি আমার প্রতিটি দৃশ্যের রেখাবৃত্তে, তোমার স্বপ্নকে আমি দিয়েছি প্রাণ আর আমার স্বপ্নে তোমার করাঘাত, প্রতি মুহূর্তে। নিজেকে হয়না চেনা আজও, শুধু নেমেছি অতলে। এখানে একা বসে কতদিন দৃশ্যকে ভাবি তুমি, স্বপ্নকে ভাবি তুমি। তোমার সাজানো দৃশ্যে হাঁটছি গন্তব্যহীন, সমাহিত সময়ের রাত্রির নক্ষত্রকে খুঁজি। আবার দেখা দেয় আলো, তোমার আলিঙ্গনের উষ্ণ ছোঁয়ায়……

অক্টো
30

তুমি তা জানো না কিছু, না জানিলে-
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে !
যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে,
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ‘পরে শুয়ে রবে ?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার !
তোমার এ জীবনের ধার
ক্ষয়ে যাবে সেদিন সকল ?
আমার বুকের ’পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল,
তুমিও কি চেয়েছিলে শুধু তাই ! -
শুধু তার স্বাদ
তোমারে কি শান্তি দেবে !
আমি ঝরে যাব, তবু জীবন অগাধ
তোমারে রাখিবে ধরে সেইদিন পৃথিবীর ’পরে-
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে !

রয়েছি সবুজ মাঠে – ঘাসে -
আকাশ ছড়ায়ে আছে নীল হয়ে আকাশে আকাশে।
জীবনের রঙ তবু ফলানো কি হয়
এই সব ছুঁয়ে ছেনে ! – সে এক বিস্ময়
পৃথিবীতে নাই তাহা – আকাশেও নাই তার স্থল -
চেনে নাই তারে অই সমুদ্রের জল !
রাতে রাতে হেঁটে হেঁটে নক্ষত্রের সনে
তারে আমি পাই নাই, কোনো এক মানুষীর মনে
কোনো এক মানুষের তরে
যে জিনিস বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীর গহ্বরে ! -
নক্ষত্রের চেয়ে আরো নিঃশব্দে আসনে
কোনো এক মানুষের তরে এক মানুষীর মনে !

একবার কথা কয়ে দেশ আর দিকের দেবতা
বোবা হয়ে পড়ে থাকে – ভুলে যায় কথা !
যে-আগুন উঠেছিল তাদের চোখের তলে জ্বলে
নিভে যায় — ডুবে যায় — তারা যায় স্খলে !
নতুন আকাঙক্ষা আসে — চলে আসে নতুন সময়
পুরনো সে নক্ষত্রের দিন শেষ হয়,
নতুনেরা আসিতেছে বলে ! –
আমার বুকের থেকে তবুও কি পড়িয়াছে স্খলে
কোনো এক মানুষীর তরে
যেই প্রেম জ্বালায়েছি পুরোহিত হয়ে তার বুকের উপরে !

আমি সেই পুরোহিত – সেই পুরোহিত ! –
যে নক্ষত্র মরে যায়, তাহার বুকের শীত
লাগিতেছে আমার শরীরে –
যেই তারা জেগে আছে, তার দিকে ফিরে
তুমি আছো জেগে –
যে আকাশে জ্বলিতেছে, তার মতো মনের আবেগে
জেগে আছো –
জানিয়াছে তুমি এক নিশ্চয়তা — হয়েছ নিশ্চয় !
হয়ে যায় আকাশের তলে কত আলো – কত আগুনের ক্ষয় ;
কতবার বর্তমান হয়ে গেছে ব্যথিত অতীত –
তবুও তোমার বুকে লাগে নাই শীত
যে নক্ষত্র ঝরে যায় তার !
যে পৃথিবী জেগে আছে, তার ঘাস – আকাশ তোমার !
জীবনের স্বাদ লয়ে জেগে আছ – তবুও মৃত্যুর ব্যথা দিতে
পার তুমি ;
তোমার আকাশের তুমি উষ্ণ হয়ে আছ, তবু –
বাহিরের আকাশের শীতে
নক্ষত্রের হইতেছে ক্ষয়,
নক্ষত্রের মতন হৃদয়
পড়িতেছে ঝরে–
ক্লান্ত হয়ে – শিশিরের মতো শব্দ করে !
জানো নাকো তুমি তার স্বাদ ,
তোমারে নিতেছে ডেকে জীবন অবাধ ,
জীবন অগাধ!
হেমন্তের ঝড়ে আমি ঝরিব যখন –
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকে পরে শুয়ে রবে ? — অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার !
তোমার আকাশ — আলো — জীবনের ধার
ক্ষয়ে যাবে সেদিন সকল ?
আমার বুকের পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল
তুমিও কি চেয়েছিলে শুধু তাই ! শুধু তার স্বাদ
তোমারে কি শান্তি দেবে !
আমি চলে যাব — তবু জীবন অগাধ
তোমারে রাখিবে ধরে সেই দিন পৃথিবীর ‘পরে ; –
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে !

অক্টো
26

মানুষ রাজনৈতিক জীব। যিনি এই অসাধারণ কথাটি বলেছিলেন সেই মহামনীষীর নামটি এই মুহূর্তে মনে নেই। এ্যরিস্টটল সাহেব হতে পারেন। যাই হোক তাকে এই মুহূর্তে সামনে পেলে যে আমি মোটেও খুশি হব না, তা জোর গলায় বলতে পারি। কারণটা আর কিছু না, রাজনীতি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সরকারি দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখে ভয় পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ক্যাডেট কলেজ ব্লগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম “আমি খুব ভয় পাই” এই শিরোনামে। তখন ভাবিনি আমার ভয়টা এত তাড়াতাড়ি চরম বাস্তব হয়ে সামনে আসবে।

ক্যাডেট কলেজের ১০১ একরের ক্ষুদ্র জায়গায় (যার অনেকখানিই এখনো অনাবিষ্কৃত !) ৬ টা বছর পার করার সময় অসীমতার স্বাদ পেয়েছিলাম তার বিশাল লাইব্রেরীর মধ্যে। যার ফলশ্রুতিস্বরূপ আমার বর্তমান উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা। অনেক বন্ধুদের মত সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বাসনা আমাকে কখনো চেপে বসেনি। আমি বরং এমন একটা স্থান চেয়েছিলাম, যেখানে আমি স্বাধীন ভাবে নিজেকে সাজাতে পারব। চেয়েছিলাম দেশের নামকরা শিক্ষকদের সাহচর্যে এসে নিজেকে সমৃদ্ধ করব, তাদের জ্ঞানের সুবাসে নিজেকে সিক্ত করব।

ছা’ পোষা সরকারী চাকুরিজীবী বাবা সংসার চালানোতে শত কষ্ট সত্বেও দারিদ্রের স্পর্শ আমাকে কখনো তিনি পেতে দেননি। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বের হবার পর ঢাকায় কোচিং করার সময়ও তা বুঝতে পারিনি, তাই পড়ালেখার ধারের কাছেও যেতাম না, আফটার তখন ডিজুসের স্বর্ণযুগ । ফলাফল, ঢাকার মাঝে কোন ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করতে না পারা। যাই হোক, আব্বুকে পাঠালাম দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সব খবর নিয়ে এসে বলল, “বাবা, ৪ বছরের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করতে ৫ লাখ আর তোমার যেহেতু ঢাকায় বাসা নাই তাই থাকা খাওয়া দিয়ে আরো ২ লাখ (হাসছেন! হাসারই কথা। কারণ ৪ বছরে এক জন মানুষ এই বাজারে ২ লাখ টাকায় থাক-খাওয়া !) লাগবে। বাবা, আমার এত টাকা নেই। তুমি পারলে কোন বিআইটি তে ঢোক। নইলে বাসার পাশের ডিগ্রী কলেজই তোমার ভরসা।” ধাক্কা খেয়েছিলাম, কিন্তু হতাশ হইনি। তাই বর্তমানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটা বিআইটি তে প্রথম সারির একটা সাবজেক্টই আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবন নির্ধারণ করছে। ভার্সিটিতে সিনিয়রদের কাছে শোনা রাজনীতিমুক্ত একটা ক্যাম্পাসই আমার মনে তখন গেঁথে গিয়েছিল।

সবই ঠিক ছিল। ঝামেলাটা হল নির্বাচনের পরে। রাজনীতির একের পর এক থাবা যেন ছাত্রদের জীবন অতিষ্ট করে তুলল। ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ঝামেলাগুলো পরবর্তীতে রাজনীতিক ছত্রছায়ায় ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করল বিপুল বিক্রমে। আগে যেখানে বছরে একটা রাজনৈতিক মিছিলও আতস কাঁচ দিয়ে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হত, বর্তমানে ক্যাম্পাসে জরুরী অবস্থা এবং সাময়িক কালের জন্য রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও এখন আকাশে বাতাসে তাদের উদ্দীপ্ত কণ্ঠের প্রকম্পন শোনা যায়। রাজনীতির ছোবলে বারবার ক্যাম্পাস বন্ধ হতে থাকে। ছাত্রদের জীবন থেকে মূল্যবান কিছু সময় নষ্ট হয়ে যায়। আচ্ছা, এর দায়ভার কে নেবে ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাকি বিরোধী দলীয় নেত্রী !

আমি জানি আমার বাবা সামান্য কটি টাকা উপার্জনের জন্য সারাদিন কতখানি পরিশ্রম করেন। অফিস শেষে যখন বাসায় আসেন, আমি লজ্জায় তার মুখের দিকে তাকাতে পারি না। কারণ, এত বড় হয়েও তার কাছে থেকে টাকা নিয়ে এখনো পড়ালেখা করছি। তাই আমার জন্য শিক্ষাবর্ষের একটি দিন অনেক অনেক মূল্যবান। কারণ, ওই একটি দিন আমি যে টাকা খরচ করব, তা আমার বাবার অনেক কষ্টার্জিত।

আমি রাজনীতির বিরুদ্ধে নই। আমি শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতির বিরুদ্ধে। এতগুলো ব্রিলিয়ান্ট ছেলেকে রাজনীতি নামক বিষ খাইয়ে তাদের মুক্তচিন্তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। আমার খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কাউকে বলতে পারি না। আমার চারপাশের সবাই যে এই অমৃতপিয়াসী।

অক্টো
23

আচ্ছা, বলতে পারবে, কি তোমাকে সবচেয়ে বেশি সুখ দিয়েছে ? হুম, জানি, একগাদা লিস্ট এনে আমার সামনে দেবে। কেউ বা বলবে মায়ের আদর, কেউবা বলবে প্রিয়ার আর্দ্র ঠোঁট, অথবা কেউ বলবে, ধুত্, সুখ বলে কিছু আছে নাকি (চরমতম হতাশাবাদী) !! আমি কিন্তু কোনটাই বলব না। কারণটা একটু পরে বলছি।

সাধারণ একটা ধর্মপ্রাণ পরিবারে আমার জন্ম হলেও ধর্ম-কর্ম করাটা ছোটবেলা থেকে হয়ে ওঠেনি। আর সেসময় সাধারণত দুষ্টুমি আর পড়ালেখা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলাম। ধর্ম পালন করা বলতে ছিল ঈদ। উফ, কি মজা যে হত! মাঠে নামাজ পড়তে যাওয়া, কাজিনদের সাথে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাস্তা খাওয়া আর সেলামি নেয়া। সেটা ১ টাকাই হোক, আর ১০ টাকা!

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করিয়ে আমার যেন হাতে-পায়ে বেড়ী পরিয়ে দেয়া হল। আর আমি তৈরী করে নিলাম আমার আপন জগত। বই।

কলেজে একবার একটা সমস্যার জন্য খুব মানসিক চাপে ছিলাম। এক বন্ধু বলল, একটু ধর্ম-কর্ম কর। দেখবি, ভাল লাগবে। কারণ তখন কোন এক কারণে সৃষ্টিকর্তার সাথে একটা দূরত্ব তৈরী হয়েছিল এবং সেটা অতিক্রম করতে আমি ইচ্ছুক ছিলাম না। এবং আমার বন্ধুটি সেটা লক্ষ্য করেছিল। যাই হোক, সৃষ্টিকর্তার প্রার্থণা শুরু করলাম। অপার শান্তি আমাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করল। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছি।

মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ। আমিও। আবার ভুলে গেলাম সৃষ্টিকর্তাকে।

গত কয়েকদিন ধরে মনটা খুব বিক্ষিপ্ত ছিল। কিছুই ভালো লাগত না। আমি আবার তাকে স্মরণ করা শুরু করেছি। শান্তির নীল আলোয় অবগাহন করতে করতে উপলব্ধি করলাম, তিনিই আমার শেষ আশ্রয়।

আমি ভালো আছি। খুব ভালো আছি।

অক্টো
17

এটা আমার প্রথম পোষ্ট। প্রথম পোষ্টে যেমন অনেক উত্তেজনা টাইপ ব্যাপার থাকে, আমার তেমন কিছু হচ্ছে না। কারণ, এটা আমার প্রথম পোষ্ট হলেও ব্লগিং প্রথম নয়। সাধারণত, আমি ক্যাডেট কলেজ ব্লগে লিখি। কিন্তু বেশকিছু অপ্রীতিকর কারণে ওইখানে আপাতত লেখা বন্ধ করেছি, ব্যাপারগুলো একান্তই ব্যাক্তিগত।

প্রথম ব্লগে হতাশামূলক কিছু লেখার ইচ্ছা সাধারণত কারও থাকে না। আমারো নেই। তাছাড়া হতাশা আমাকে স্পর্শ করে না। প্রতিবার যখন আয়নায় নিজের মুখটা দেখি, একটা চিরসুখী সত্ত্বার প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই,পারিও। কিন্তু আজ মনটা খুব খারাপ। মন খারাপের কারনটা আরও বিশ্রী। আজ থিসিসের ভাইবা ছিল। গত কয়েকদিন ধরে অবিশ্রাম খাটুনির পর কোনভাবে কিছু কাজ শেষ করেছি। কিন্তু যায়গামত যেয়ে একেবারে ধরা ! কোনও প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারলাম না। কেন? জানিনা। গত সেমিস্টারে সেন্ট্রাল ভাইবার পর থেকে কেমন যেন সবকিছু বদলে গেছে। নিজের ওপর বিশ্বাস অনেকখানি কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিটা ভাইবা শেষে হাসতে হাসতে বের হয়েছি, এখন কেন যেন অল্পতেই ভড়কে যাচ্ছি। কেন?

না। আমাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাকে; আমার স্বর্ণালী অতীতকে। সেই সময়টুকুর জন্যই তব প্রতীক্ষা……সূর্যের শক্তি ধারণ করে সূর্যস্নাত এক সত্ত্বার।